
1:28:02
Science | বিজ্ঞান | Chapter 5 | সমন্বয় ও নিঃসরণ | Class 8 StarBatch | Fahad Sir
Fahad's Tutorial
Overview
এই ভিডিওটি ক্লাস ৮-এর বিজ্ঞান বইয়ের পঞ্চম অধ্যায় 'সমন্বয় ও নিঃসরণ' নিয়ে আলোচনা করে। এতে উদ্ভিদের সমন্বয়, ফাইটো হরমোন, মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র এবং রেচনতন্ত্রের মতো বিষয়গুলো সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এছাড়াও, হরমোনের ব্যবহার, নিউরনের গঠন ও কাজ, এবং প্রতিবর্তী ক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ভিডিওটিতে পাঠ্যবইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় এমসিকিউ ও সৃজনশীল প্রশ্নের ধারণা দেওয়া হয়েছে।
How was this?
Save this permanently with flashcards, quizzes, and AI chat
Chapters
- সমন্বয় বলতে জীবদেহের বিভিন্ন তন্ত্রের পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝায়।
- উদ্ভিদ ও প্রাণীর মধ্যে সমন্বয় ঘটে, এই অধ্যায়ে মূলত উদ্ভিদের সমন্বয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।
- ফাইটো হরমোন উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র প্রাণীর সমন্বয় ও প্রতিক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য।
জীবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কিভাবে একসাথে কাজ করে এবং পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলে, তা বোঝার জন্য সমন্বয় ও নিঃসরণ প্রক্রিয়া জানা জরুরি।
উদ্ভিদের জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায় যেমন - অঙ্কুরোদগম, পুষ্পায়ন, ফল সৃষ্টি, বার্ধক্য প্রাপ্তি এবং সুপ্তাবস্থা সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হওয়া সমন্বয়ের উদাহরণ।
- ফাইটো হরমোন হলো উদ্ভিদে উৎপাদিত জৈব রাসায়নিক পদার্থ যা বৃদ্ধি ও বিকাশে প্রভাব ফেলে।
- ফাইটো হরমোন দুই প্রকার: বৃদ্ধিবর্ধক (যেমন অক্সিন, জিবেরেলিন, সাইটোকাইনিন) এবং বৃদ্ধি রোধক (যেমন অ্যাবসিসিক অ্যাসিড, ইথিলিন)।
- অক্সিন শাখা কলমে মূল গজাতে, ফল অকালে ঝরে পড়া রোধ করতে সাহায্য করে।
- জিবেরেলিন পর্ব মধ্যের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করে এবং বীজের সুপ্তাবস্থা কাটাতে সাহায্য করে।
- ইথিলিন একটি গ্যাসীয় পদার্থ যা ফল পাকাতে এবং সুপ্তাবস্থা ভঙ্গ করতে সাহায্য করে।
উদ্ভিদের বৃদ্ধি, ফুল ফোটা, ফল ধরা এবং পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর প্রক্রিয়াগুলো বোঝার জন্য ফাইটো হরমোনের ভূমিকা জানা প্রয়োজন।
অক্সিন প্রয়োগে শাখা কলমে মূল গজায় এবং ফল পাকার আগেই ঝরে পড়া রোধ হয়।
- স্নায়ুতন্ত্র জীবকে পরিবেশের সাথে সমন্বয় রক্ষা করতে এবং উদ্দীপনায় সাড়া দিতে সাহায্য করে।
- স্নায়ুতন্ত্র প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত: কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড) এবং প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র।
- নিউরন বা স্নায়ুকোষ হলো স্নায়ুতন্ত্রের গাঠনিক ও কার্যকরী একক।
- নিউরনের প্রধান অংশগুলো হলো কোষদেহ (সোমা) এবং প্রলম্বিত অংশ (অ্যাক্সন ও ডেনড্রন/ডেনড্রাইট)।
- নিউরনের মধ্যে সেন্ট্রিওল না থাকায় এটি বিভাজিত হয় না।
আমাদের চিন্তা, অনুভূতি, স্মৃতি এবং শারীরিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য স্নায়ুতন্ত্র অপরিহার্য। এটি পরিবেশ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া জানাতে সাহায্য করে।
আলোর উৎসের দিকে গাছের কাণ্ড বেঁকে যাওয়া ফটোট্রপিজমের একটি উদাহরণ, যা স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়।
- মস্তিষ্কের প্রধান তিনটি অংশ হলো: গুরুমস্তিস্ক (সেরিব্রাম), মধ্যমস্তিস্ক (মিডব্রেন) এবং পশ্চাৎমস্তিস্ক (সেরিবেলাম, পন্স, মেডুলা অবলংগাটা)।
- গুরুমস্তিস্ক চিন্তা, স্মৃতি, বুদ্ধি, অনুভূতি এবং পেশি চালনা নিয়ন্ত্রণ করে।
- লঘুমস্তিস্ক (সেরিবেলাম) দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে।
- পন্স ও মেডুলা অবলংগাটা শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদস্পন্দন ইত্যাদি অত্যাবশ্যকীয় কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে।
মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের কাজ জানা থাকলে আমরা আমাদের শারীরিক ও মানসিক কার্যকলাপের পেছনের কারণগুলো বুঝতে পারি এবং মস্তিষ্কের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারি।
দেহের ভারসাম্য রক্ষা করা লঘুমস্তিস্কের (সেরিবেলাম) একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
- প্রতিবর্তী ক্রিয়া হলো স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে হঠাৎ ও অনৈচ্ছিক প্রতিক্রিয়া, যা মস্তিষ্ক পর্যন্ত না গিয়ে সুষুম্নাকাণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- প্রতিবর্তী ক্রিয়ার পথকে রিফ্লেক্স আর্ক বলা হয়, যেখানে সংবেদী স্নায়ু, রিলে নিউরন এবং আজ্ঞাবাহী স্নায়ু জড়িত থাকে।
- রেচনতন্ত্র দেহের বিপাকীয় বর্জ্য পদার্থ (যেমন ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড) নিষ্কাশনে সাহায্য করে।
- বৃক্ষ (কিডনি) মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গ, যা রক্ত পরিশোধন করে মূত্র তৈরি করে।
- ফুসফুস কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং ত্বক ঘামের মাধ্যমে কিছু বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন করে।
প্রতিবর্তী ক্রিয়া আমাদের শরীরকে ক্ষতিকর উদ্দীপনা থেকে রক্ষা করে এবং রেচনতন্ত্র দেহের অভ্যন্তরীণ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গরম কিছু স্পর্শ করলে সঙ্গে সঙ্গে হাত সরিয়ে নেওয়া একটি প্রতিবর্তী ক্রিয়ার উদাহরণ।
Key takeaways
- জীবদেহের সুষ্ঠু কার্যকারিতা ও পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলার জন্য সমন্বয় অপরিহার্য।
- ফাইটো হরমোন উদ্ভিদের বৃদ্ধি, বিকাশ এবং বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
- স্নায়ুতন্ত্র আমাদের চিন্তা, অনুভূতি, স্মৃতি এবং পারিপার্শ্বিকতার প্রতি প্রতিক্রিয়া জানাতে সাহায্য করে।
- মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ নির্দিষ্ট কাজ করে, যেমন গুরুমস্তিস্ক চিন্তা ও স্মৃতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং লঘুমস্তিস্ক ভারসাম্য রক্ষা করে।
- প্রতিবর্তী ক্রিয়া তাৎক্ষণিক বিপদ থেকে রক্ষা করে এবং রেচনতন্ত্র দেহের বর্জ্য নিষ্কাশন করে সুস্থ রাখে।
Key terms
সমন্বয়ফাইটো হরমোনঅক্সিনজিবেরেলিনইথিলিনস্নায়ুতন্ত্রনিউরনমস্তিষ্কসুষুম্নাকাণ্ডপ্রতিবর্তী ক্রিয়ারেচনতন্ত্রবৃক্ষইউরিয়াসিনেপস
Test your understanding
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশে ফাইটো হরমোনের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
- স্নায়ুতন্ত্রের গাঠনিক ও কার্যকরী একক হিসেবে নিউরনের গঠন ও কাজ বর্ণনা কর।
- মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের কাজগুলো কী কী?
- প্রতিবর্তী ক্রিয়া বলতে কী বোঝায়? এর গুরুত্ব আলোচনা কর।
- মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গ কোনটি এবং এটি কিভাবে কাজ করে?