
40:13
দিনরাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি ও ঋতু পরিবর্তন | SSC BGS | সৌরজগৎ ও ভূমণ্ডল (পর্ব ০৫) | Shikho | Shahedin
Shikho
Overview
এই ভিডিওটি পৃথিবীর দুটি প্রধান গতি - আনিক গতি এবং বার্ষিক গতি - এবং এদের প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করে। আনিক গতির ফলে দিন-রাত্রি সংঘটিত হয় এবং সময় গণনা করা সম্ভব হয়। বার্ষিক গতির ফলে ঋতু পরিবর্তন এবং দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। ভিডিওটিতে এই গতিগুলোর কারণ, প্রভাব এবং সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও ধারণাগুলো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের সৌরজগত ও ভূমণ্ডল অধ্যায়টি ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করবে।
How was this?
Save this permanently with flashcards, quizzes, and AI chat
Chapters
- ভিডিওটি সৌরজগত ও ভূমণ্ডল অধ্যায়ের পঞ্চম ক্লাস, যা পৃথিবীর গতি নিয়ে আলোচনা করবে।
- পৃথিবীর দুটি প্রধান গতি রয়েছে: নিজ অক্ষের চারদিকে ঘূর্ণন (আনিক গতি) এবং সূর্যের চারদিকে পরিভ্রমণ (বার্ষিক গতি)।
- আনিক গতি নিজ অক্ষের চারদিকে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন, যা সম্পন্ন করতে প্রায় ২৪ ঘন্টা সময় লাগে।
- বার্ষিক গতি সূর্যের চারদিকে উপবৃত্তাকার পথে পরিক্রমণ, যা সম্পন্ন করতে প্রায় ৩৬৫ দিন সময় লাগে।
পৃথিবীর এই দুটি মৌলিক গতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা জলবায়ু পরিবর্তন, দিন-রাত্রি এবং ঋতু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ঘটনাগুলো বোঝার জন্য অপরিহার্য।
পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর ঘুরছে এবং একই সাথে সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, যা একটি গ্লোব ঘুরিয়ে দেখানো হয়েছে।
- আনিক গতির প্রধান ফলাফল হলো দিন ও রাতের সৃষ্টি।
- পৃথিবীর গোলাকার আকৃতি এবং আনিক গতির কারণে সূর্যের আলো সব জায়গায় সমানভাবে পড়ে না, ফলে দিন ও রাত হয়।
- আনিক গতির ফলে সময় গণনা করা সম্ভব হয়, কারণ প্রতিটি দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করতে নির্দিষ্ট সময় লাগে।
- আনিক গতির প্রভাবে চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণে জোয়ার-ভাটা হয় এবং সমুদ্রস্রোত ও বায়ু প্রবাহের উপর প্রভাব ফেলে।
আনিক গতির প্রভাবগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবন এবং পৃথিবীর পরিবেশের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে, যেমন দিনের আলো পাওয়া এবং সময়মতো কাজ করা।
পৃথিবীর যে অংশে সূর্যের আলো পড়ে সেখানে দিন এবং যেখানে আলো পড়ে না সেখানে রাত হয়, যা একটি মডেলের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে।
- বার্ষিক গতির ফলে দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যের পরিবর্তন ঘটে।
- পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথ এবং নিজ অক্ষের সাথে হেলে থাকার কারণে বছরের বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশ সূর্যের দিকে বেশি বা কম আলো পায়।
- যখন উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে হেলে থাকে, তখন সেখানে দিন বড় হয় এবং গ্রীষ্মকাল থাকে।
- যখন দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে হেলে থাকে, তখন সেখানে দিন বড় হয় এবং গ্রীষ্মকাল থাকে।
দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যের পরিবর্তন সরাসরি তাপমাত্রা এবং আবহাওয়ার উপর প্রভাব ফেলে, যা ঋতু পরিবর্তনের একটি প্রধান কারণ।
পৃথিবী তার কক্ষপথে ঘোরার সময় কখনো হেলে থাকার কারণে উত্তর গোলার্ধে বেশি আলো পড়ে (দিন বড় হয়) আবার কখনো দক্ষিণ গোলার্ধে বেশি আলো পড়ে (দিন বড় হয়)।
- বার্ষিক গতির কারণে ঋতু পরিবর্তন ঘটে।
- পৃথিবীর অক্ষ তার কক্ষপথের সাথে ২৩.৫ ডিগ্রি কোণে হেলে থাকার কারণে ঋতু পরিবর্তন হয়।
- ২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর তারিখে সূর্য নিরক্ষ রেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়, ফলে দিন-রাত্রি সমান হয় এবং বসন্ত ও শরৎকাল বিরাজ করে।
- ২১শে জুন তারিখে সূর্য কর্কট ক্রান্তি রেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়, ফলে উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল ও দিন বড় হয় এবং দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল ও দিন ছোট হয়।
- ২২শে ডিসেম্বর তারিখে সূর্য মকর ক্রান্তি রেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়, ফলে দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল ও দিন বড় হয় এবং উত্তর গোলার্ধে শীতকাল ও দিন ছোট হয়।
ঋতু পরিবর্তন পৃথিবীর জীবজগৎ এবং কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং উদ্ভিদের জীবনচক্রকে প্রভাবিত করে।
২১শে জুন উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন এবং ২২শে ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন, যা ঋতু পরিবর্তনের প্রমাণ।
- পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘুরতে ৩৬৫ দিনের চেয়ে প্রায় ৬ ঘন্টা বেশি সময় নেয়।
- এই অতিরিক্ত সময় প্রতি চার বছর পর পর একদিন হিসেবে যোগ হয়, যা অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার নামে পরিচিত (৩৬৬ দিন)।
- ঋতু পরিবর্তনের জন্য পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথ, অক্ষের কৌণিক অবস্থান এবং সূর্যের আলো ও তাপের তারতম্য প্রধান কারণ।
- এছাড়াও, সমুদ্রের অবস্থান, বনভূমি এবং বৃষ্টিপাতও ঋতু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে।
লিপ ইয়ারের ধারণাটি ক্যালেন্ডারকে সৌরজগতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখে এবং ঋতু পরিবর্তনের কারণগুলো বোঝা পৃথিবীর জলবায়ু ও পরিবেশ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান প্রদান করে।
প্রতি চার বছর পর পর ফেব্রুয়ারি মাস ২৯ দিনে হয়, যা লিপ ইয়ারের একটি উদাহরণ।
Key takeaways
- পৃথিবীর আনিক গতির ফলে দিন ও রাত হয় এবং বার্ষিক গতির ফলে ঋতু পরিবর্তন ও দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে।
- পৃথিবীর অক্ষ তার কক্ষপথের সাথে ২৩.৫ ডিগ্রি কোণে হেলে থাকার কারণে ঋতু পরিবর্তন ঘটে, কারণ এটি বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গোলার্ধে সূর্যের আলোর পরিমাণকে প্রভাবিত করে।
- ২১শে মার্চ, ২১শে জুন, ২৩শে সেপ্টেম্বর এবং ২২শে ডিসেম্বর - এই চারটি তারিখ ঋতু পরিবর্তন এবং দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যের চরম অবস্থা বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- ক্যালেন্ডারকে সৌরজগতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে প্রতি চার বছর পর পর একটি অতিরিক্ত দিন যোগ করা হয়, যা লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষ নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথ এবং সূর্য থেকে দূরত্বের পরিবর্তনও তাপমাত্রার তারতম্যে সামান্য প্রভাব ফেলে, যা ঋতু পরিবর্তনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
Key terms
আনিক গতি (Rotational motion)বার্ষিক গতি (Revolution)অক্ষ (Axis)কর্কট ক্রান্তি রেখা (Tropic of Cancer)মকর ক্রান্তি রেখা (Tropic of Capricorn)নিরক্ষ রেখা (Equator)ঋতু পরিবর্তন (Seasonal change)অধিবর্ষ (Leap year)অনুসোর (Perihelion)অপসোর (Aphelion)
Test your understanding
- পৃথিবীর আনিক গতির প্রধান দুটি ফলাফল কী কী?
- বার্ষিক গতির কারণে কেন ঋতু পরিবর্তন হয়?
- ২১শে জুন তারিখে উত্তর গোলার্ধে কেন দিন বড় হয় এবং গ্রীষ্মকাল থাকে?
- লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষ কেন প্রয়োজন এবং এটি কিভাবে গণনা করা হয়?
- পৃথিবীর অক্ষ তার কক্ষপথের সাথে ২৩.৫ ডিগ্রি কোণে হেলে থাকার গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।